জাগ্রত শ্রাবণজাগ্রত শ্রাবণ

বাংলাদেশে শিশুদের ৩৮.৫ শতাংশের রক্তে সিসার উচ্চমাত্রা, বেশি ঝুঁকিতে ধনী পরিবারের শিশুরা

দেশে নিম্ন আয়ের পরিবারের তুলনায় ধনী পরিবারের শিশুদের রক্তে সিসার উচ্চমাত্রা বেশি। পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের নিয়ে পরিচালিত জাতীয় জরিপের উপাত্ত বিশ্লেষণ করে এমন তথ্য পেয়েছেন গবেষকেরা।

লিখেছেন
· পড়তে সময় লাগবে ২ মিনিট
প্রতীকী ছবি
জাগ্রত শ্রাবণ (ছবি সংগৃহীত) · Jagroto Srabon

জরিপের তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে দরিদ্র ২০ শতাংশ পরিবারের শিশুদের ৩০ দশমিক ২ শতাংশের রক্তে সিসার মাত্রা বেশি। সবচেয়ে ধনী ২০ শতাংশ পরিবারের শিশুদের ক্ষেত্রে এ হার ৫১ দশমিক ৯ শতাংশ।

শিশুদের রক্তে সিসার উচ্চমাত্রা উদ্বেগজনক। সিসা মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের বিকাশে ক্ষতি করতে পারে। এর প্রভাবে বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতা, মনোযোগ, শেখার ক্ষমতা ও আচরণে সমস্যা দেখা দিতে পারে। এসব ক্ষতির সব সময় তাৎক্ষণিক লক্ষণ থাকে না। অনেক ক্ষেত্রে শিশুকে সুস্থ দেখালেও তার বিকাশ বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

দেশের বিশিষ্ট শিশুরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে স্নায়ুর বিকাশজনিত সমস্যায় আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বেড়ে গেছে।

বিজ্ঞাপন

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মতে, শিশুদের রক্তে সিসার এমন কোনো মাত্রা জানা নেই, যাকে সম্পূর্ণ নিরাপদ বলা যায়। বাংলাদেশে আগের গবেষণায়ও শিশুদের রক্তে সিসার মাত্রার সঙ্গে বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশের পরীক্ষায় কম স্কোর পাওয়ার সম্পর্ক দেখা গেছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, দেশের ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের ৩৮ দশমিক ৫ শতাংশের রক্তে প্রতি ডেসিলিটারে ৫ মাইক্রোগ্রাম বা তার বেশি সিসা রয়েছে। অর্থাৎ এই বয়সী প্রতি ১০০ শিশুর মধ্যে প্রায় ৩৯ জনের রক্তে সিসার মাত্রা গবেষণায় নির্ধারিত সীমায় বা তার ওপরে।

তবে পরিবারের সম্পদ অনুযায়ী এ হারে বড় পার্থক্য রয়েছে। পরিবারের সম্পদ অনুযায়ী শিশুদের পাঁচটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়। সবচেয়ে দরিদ্র ২০ শতাংশ পরিবারের শিশুদের মধ্যে সিসার উচ্চমাত্রার হার ৩০ দশমিক ২ শতাংশ। সবচেয়ে ধনী ২০ শতাংশ পরিবারের শিশুদের ক্ষেত্রে তা ৫১ দশমিক ৯ শতাংশ।

দুই শ্রেণির মধ্যে ব্যবধান ২১ দশমিক ৭ শতাংশীয় পয়েন্ট। অর্থাৎ সবচেয়ে ধনী পরিবারের শিশুদের রক্তে সিসার উচ্চমাত্রার হার সবচেয়ে দরিদ্র পরিবারের শিশুদের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

ধনী পরিবারের শিশুদের রক্তে সিসার উচ্চমাত্রার সম্ভাব্য কারণ সম্পর্কে গবেষক সৈয়দ তৌসিক হোসেন জানান,ধনী শিশুরা প্যাকেটজাত খাবার বেশি খেতে পারে। এ ছাড়া তাদের বাসায় আসবাব, দেয়ালের রং ও বিভিন্ন ধরনের তৈজস বেশি থাকে। এসব পণ্যে সিসা থাকতে পারে। ফলে পণ্যগুলোর সংস্পর্শ শিশুদের শরীরে সিসা প্রবেশের সম্ভাব্য পথ হতে পারে।

শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মোহাম্মদ সহিদুল্লাও মনে করেন, ধনী পরিবারের শিশুদের সিসার সংস্পর্শে আসার সুযোগ তুলনামূলক বেশি হতে পারে। এসব পরিবারের শিশুরা আমদানি করা খেলনা বেশি পায়। বাসায় সাজসজ্জার নানা সামগ্রীও থাকে। এ ছাড়া পোলট্রির মুরগিকে দেওয়া খাবারে সিসা থাকতে পারে। অপেক্ষাকৃত সম্পন্ন পরিবারের অনেক শিশু মুরগির মাংস বেশি খায়। এসব খাবারের মাধ্যমেও তাদের শরীরে সিসা প্রবেশ করা অস্বাভাবিক নয়।

বিজ্ঞাপন