ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কাওরাইদ মৌজায় অবস্থিত এই মূল্যবান জমিটি বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সেনা কর্মকর্তা কর্নেল এস এম রেজাউর রহমানকে রাষ্ট্রীয়ভাবে উপহার দেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে জমিটি তার পরিবারের অধীনেই ছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে জমির বিশাল বাজারমূল্যের ওপর নজর পড়ে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের।
অভিযোগে বলা হয়েছে, জমির দেখভালের দায়িত্বে থাকা কেয়ারটেকার প্রথমে গোপনে এই জালিয়াতি চক্রের সাথে হাত মেলান। পরবর্তীতে তার সাথে যোগ দেন স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং জামায়াতে ইসলামীর কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা। আদর্শগতভাবে সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী দুটি দলের স্থানীয় এই নেতারা ব্যক্তিগত স্বার্থে একজোট হয়ে জমির ভুয়া দলিল ও জাল কাগজপত্র তৈরি করেন। এই সিন্ডিকেটটি ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে এবং স্থানীয় প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে জমিটি পুরোপুরি জবরদখলের পাঁয়তারা চালাচ্ছে।
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে যখন কেন্দ্র থেকে শুরু করে বিভিন্ন পর্যায়ে আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের মধ্যকার সম্পর্ক এবং কথিত গোপন যোগসাজশ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে, ঠিক তখনই মাঠপর্যায়ে এই দুই দলের নেতাদের এমন অভূতপূর্ব আঁতাতের খবর সামনে এলো। এই ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য ও তীব্র কাদা ছোড়াছুড়ি।
ভুক্তভোগী বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবার এই জালিয়াতি চক্রের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। দেশের জন্য জীবন বাজি রাখা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার রাষ্ট্রীয় উপহারের জমি এভাবে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে গ্রাস করার চেষ্টাকে স্থানীয় সাধারণ মানুষ অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক হিসেবে দেখছেন এবং এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করছেন।
