পাবলিক অ্যাফেয়ার্স ও সামাজিক নীতিনির্ধারণবিষয়ক গবেষণার জন্য পরিচিত ম্যাক্সওয়েল স্কুলে আশফাকুর রহমানের এই সুযোগ তাঁর গবেষণাজীবনের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। সমাজতত্ত্ব, প্রবীণদের জীবনযাপন, প্রযুক্তি এবং পরিবেশগত সমাজবিজ্ঞানের মতো বিষয়ে গবেষণার আগ্রহ রয়েছে তাঁর। ভবিষ্যতে বাংলাদেশের বার্ধক্যকালীন স্বাস্থ্যসেবা, নীতিনির্ধারণ এবং কাঠামোগত বৈষম্য নিয়ে আন্তর্জাতিক মানের গবেষণায় অবদান রাখতে চান তিনি।
আশফাকুর রহমানের গবেষণাজীবনের শুরু চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্ব বিভাগে। সেখান থেকে তিনি স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। তাঁর মাস্টার্স থিসিসের বিষয় ছিল রোহিঙ্গা সংকট ও আধুনিক শাসনব্যবস্থা। এই গবেষণার মধ্য দিয়ে সামাজিক সংকট, শাসনব্যবস্থা ও সমাজের কাঠামোগত বিষয়গুলো নিয়ে তাঁর একাডেমিক আগ্রহের বিকাশ ঘটে।
এরপর দ্বিতীয় মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জনের জন্য ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে যান আশফাক। ফুল ফান্ডিং স্কলারশিপ নিয়ে ভর্তি হন মিনেসোটা স্টেট ইউনিভার্সিটি, মানকাটোর সমাজতত্ত্ব ও লিডারশিপ বিভাগে। সেখানে পড়াশোনার পাশাপাশি গবেষণায় যুক্ত হন এবং তাঁর কাজ একাধিক প্রতিযোগিতায় স্বীকৃতি পায়।
মিনেসোটা স্টেট ইউনিভার্সিটিতে তাঁর দ্বিতীয় মাস্টার্সের থিসিস পেপার স্টেট সোসাইটি অন এজিং অব নিউইয়র্কের (এসএসএএনওয়াই) সেরা গবেষণাপত্র হিসেবে প্রথম পুরস্কার অর্জন করে। ২০২৫ সালে মিডওয়েস্ট সোশিওলজিক্যাল সোসাইটি আয়োজিত বেস্ট গ্র্যাজুয়েট স্টুডেন্ট রিসার্চ পেপার প্রতিযোগিতায়ও প্রথম স্থান অধিকার করেন তিনি। পাশাপাশি সোশিওলজিস্ট অব মিনেসোটার ক্যারোলিন রোজ রিসার্চ পেপার প্রতিযোগিতায় শীর্ষস্থান অর্জন করেন।
আশফাকের গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, নজরদারি বা সার্ভেইল্যান্সের মতো সামাজিক কাঠামো তীব্র শীতের সময়ে প্রবীণদের নিরাপত্তা ও জীবনযাত্রাকে কীভাবে প্রভাবিত করে, তা অনুসন্ধান করা। প্রবীণদের দৈনন্দিন অভিজ্ঞতা, পরিবেশগত ঝুঁকি এবং সামাজিক ব্যবস্থার পারস্পরিক সম্পর্ক তাঁর গবেষণার বিষয়। জনসংখ্যার বার্ধক্য, স্বাস্থ্যসেবা এবং প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে বিভিন্ন দেশে নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রে এ ধরনের গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
গবেষণার পাশাপাশি আশফাকুর রহমান বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আন্তর্জাতিক সংস্থায় কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। মিনেসোটা স্টেট ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর এক্সিলেন্স ইন স্কলারশিপ অ্যান্ড রিসার্চে তিনি গ্র্যাজুয়েট রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট ও রিসার্চ কনসালট্যান্ট হিসেবে কাজ করেছেন। এ ছাড়া জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর কমিউনিকেশন প্রোগ্রাম এবং বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে গবেষণা সহকারী হিসেবে যুক্ত ছিলেন।
সাইরাকিউজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি গবেষণার নতুন অধ্যায় শুরু প্রসঙ্গে আশফাকুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, প্রবীণদের স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি এবং পরিবেশগত সমাজবিজ্ঞান নিয়ে নিজের গবেষণাকাজ আরও এগিয়ে নিতে চান তিনি। ভবিষ্যতে বাংলাদেশের বার্ধক্যকালীন স্বাস্থ্যসেবা, নীতিনির্ধারণ ও কাঠামোগত বৈষম্য নিয়ে আন্তর্জাতিক মানের গবেষণায় অবদান রাখার প্রত্যাশা তাঁর।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজতত্ত্বে পড়াশোনা, যুক্তরাষ্ট্রে দ্বিতীয় মাস্টার্স, গবেষণায় একাধিক পুরস্কার এবং এবার সাইরাকিউজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যাক্সওয়েল ফেলোশিপ—এসব অভিজ্ঞতা আশফাকুর রহমানের একাডেমিক যাত্রায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। তাঁর লক্ষ্য, আন্তর্জাতিক পরিসরে গবেষণার অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের সামাজিক নীতি ও প্রবীণদের কল্যাণসংশ্লিষ্ট গবেষণায় অবদান রাখা।
