জাগ্রত শ্রাবণজাগ্রত শ্রাবণ

ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার কেলেঙ্কারি, চুপ্পুর বিরুদ্ধে মামলার প্রতিবেদন ২০ জানুয়ারি

ইসলামী ব্যাংকের প্রায় ২৫১ কোটি টাকার শেয়ার জালিয়াতির অভিযোগে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনসহ ২০ জনের বিরুদ্ধে করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় পিছিয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ কারণে আগামী বছরের ২০ জানুয়ারি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নতুন তারিখ ধার্য করেছেন আদালত।

লিখেছেন
· পড়তে সময় লাগবে ২ মিনিট
 সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু
সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু · (ফাইল ছবি)

ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত নতুন এ তারিখ নির্ধারণ করেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী সংবাদমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নির্ধারিত দিনে দুদক তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে না পারায় মামলাটির পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য নতুন দিন ধার্য করা হয়।

মামলার সূত্রে জানা যায়, গত বছর ইসলামী ব্যাংকের প্রধান শাখার এক কর্মকর্তা শেয়ার জালিয়াতির অভিযোগে আদালতে মামলার আবেদন করেন। বাদীর জবানবন্দি গ্রহণের পর আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে ঘটনাটি অনুসন্ধানের জন্য দুদককে নির্দেশ দেন। সেই মামলাতেই সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনসহ ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলায় সাহাবুদ্দিনকে ১২ নম্বর আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগে তাঁকে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালক হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়েছে। অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ব্রিলিয়্যান্ট বিজনেস কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চেয়ারম্যান, এস আলম গ্রুপের শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ, ইসলামী ব্যাংকের বিভিন্ন সময়ের পরিচালক এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নির্বাহীরা।

বিজ্ঞাপন

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, আসামিরা পরস্পরের যোগসাজশে পরিকল্পিতভাবে ইসলামী ব্যাংকের বিপুল পরিমাণ শেয়ার নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেন। ক্ষমতা ও পদের অপব্যবহার করে শেয়ার অধিগ্রহণের মাধ্যমে ব্যাংকটির ওপর একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার বিবরণীতে বলা হয়েছে, শেয়ার অধিগ্রহণে ব্যবহৃত ব্রিলিয়্যান্ট বিজনেস কোম্পানি লিমিটেডের পরিশোধিত মূলধন ছিল মাত্র আট লাখ টাকা। অথচ এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেই প্রায় ২৫১ কোটি টাকা মূল্যের সাত কোটিরও বেশি শেয়ার অধিগ্রহণ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এত কম পরিশোধিত মূলধনের একটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে বিপুল অঙ্কের শেয়ার কেনার আর্থিক সক্ষমতা কীভাবে তৈরি হলো, তা মামলার অভিযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ইসলামী ব্যাংকের সিংহভাগ শেয়ার অধিগ্রহণে যুক্ত ২৪টি কোম্পানির সঙ্গে এস আলম গ্রুপের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সংযোগ রয়েছে। শেয়ার কেনাবেচার তারিখ এবং অর্থের উৎস বিশ্লেষণের ভিত্তিতে পুরো প্রক্রিয়াটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে এসব লেনদেনের প্রকৃত উৎস, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং শেয়ার অধিগ্রহণের পেছনের প্রক্রিয়া নির্ধারণের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

মামলার অভিযোগে ব্যাংকটির অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ও আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, বিভিন্ন কৌশলে ব্যাংকটির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন এবং অবৈধভাবে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তবে অর্থ আত্মসাৎ, জালিয়াতি কিংবা কোনো ব্যক্তির অপরাধে সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তদন্তের ফলাফল ও বিচারিক প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে।

এদিকে মামলার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আসামিদের দেশত্যাগের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে বলে দেওয়া তথ্যে উল্লেখ রয়েছে। সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ছাড়া মামলার অন্য আসামিদের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল না হওয়ায় অভিযোগগুলোর বিষয়ে তদন্তের চূড়ান্ত ফল এখনো আদালতে উপস্থাপিত হয়নি।

বিজ্ঞাপন