জাগ্রত শ্রাবণজাগ্রত শ্রাবণ

স্বাস্থ্য গবেষণা ও আধুনিক চিকিৎসা অবকাঠামো উন্নয়নে জাপানের প্রতি জুবাইদা রহমানের আহ্বান

বাংলাদেশে স্বাস্থ্যসেবা, স্বাস্থ্য গবেষণা, মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য এবং আধুনিক চিকিৎসা অবকাঠামোর উন্নয়নে সহযোগিতা বাড়াতে জাপানের সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ও চিকিৎসক ডা. জুবাইদা রহমান। তিনি বলেছেন, স্বাস্থ্য খাতের বিদ্যমান ও উদীয়মান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশ ও জাপানের অভিজ্ঞতা, জ্ঞান ও সক্ষমতা কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে।

লিখেছেন
· পড়তে সময় লাগবে ২ মিনিট
জাপানের টোকিওতে সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশন আয়োজিত স্বাস্থ্যবিষয়ক সেমিনারে আজ বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান
জাপানের টোকিওতে সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশন আয়োজিত স্বাস্থ্যবিষয়ক সেমিনারে আজ বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান · (ছবি সংগৃহীত)

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) জাপানের টোকিওতে সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশন আয়োজিত স্বাস্থ্যবিষয়ক এক সেমিনারে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ আহ্বান জানান।

জুবাইদা রহমান বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান সরকার স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষাকে প্রধান নীতিগত অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত করেছে। সবার জন্য সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, সরকারি স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন, স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ এবং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য স্বাস্থ্য ও শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কর্মসংস্থানমুখী শিক্ষা, সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি এবং পরিবারভিত্তিক সামাজিক সহায়তা কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। এ ক্ষেত্রে ফ্যামিলি কার্ড চালুসহ সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী।

বিজ্ঞাপন

স্বাস্থ্যকে নিজের পেশাগত ও ব্যক্তিগত আগ্রহের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে উল্লেখ করে জুবাইদা রহমান বলেন, মানুষের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর মতে, স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন শুধু চিকিৎসার সুযোগ বাড়ানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং মানুষের সামগ্রিক কল্যাণ, সামাজিক সুরক্ষা এবং জীবনযাপনের মান উন্নয়নের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত।

বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্রমবিকাশের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, দুই দেশের অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতা বিনিময়ের মাধ্যমে স্বাস্থ্য এবং সামাজিক খাতের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব। এ সহযোগিতা স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, গবেষণার অগ্রগতি এবং আধুনিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।

শিশুদের সুস্থ পরিবেশে বেড়ে ওঠা এবং তাদের সম্ভাবনার পূর্ণ বিকাশ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন জুবাইদা রহমান। তিনি বলেন, এ লক্ষ্য অর্জনে টেকসই সামাজিক ব্যবস্থা, শক্তিশালী অর্থনীতি, মানসম্মত শিক্ষা এবং সহিংসতা, দারিদ্র্য ও অন্যান্য ঝুঁকি থেকে মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। বাংলাদেশ ও জাপান উভয় দেশই শিশুদের উন্নয়ন ও কল্যাণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

বিশ্বব্যাপী আন্তঃসংযোগ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে স্বাস্থ্য কূটনীতির গুরুত্ব তুলে ধরে জুবাইদা রহমান বলেন, ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ নিশ্চিত করার অভিন্ন লক্ষ্য অর্জনে স্বাস্থ্য কূটনীতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবার বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা মোকাবিলা এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের পথ তৈরি করা সম্ভব।

বাংলাদেশে মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্যের উন্নয়নে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থা, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান, স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগ এবং জনকল্যাণমূলক ফাউন্ডেশনগুলোর অবদানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। চিকিৎসক হিসেবে বাংলাদেশে নিজের পেশাগত অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে বলেন, উপযুক্ত স্বাস্থ্যনীতি বাস্তবায়ন, স্বাস্থ্য গবেষণার অগ্রগতি এবং আধুনিক চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে।

সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশন শিশু ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় যে কাজ করছে, তার প্রশংসা করেন জুবাইদা রহমান। একই সঙ্গে বাংলাদেশে ফাউন্ডেশনটির কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের আহ্বান জানান তিনি। উদীয়মান স্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আরও বেশি সম্পদ ও সহযোগিতা নিয়ে এগিয়ে আসার জন্যও প্রতিষ্ঠানটির প্রতি আহ্বান জানান।

বক্তব্যের শেষাংশে জুবাইদা রহমান বলেন, স্বাস্থ্য সুরক্ষা, স্বাস্থ্যোন্নয়ন এবং দীর্ঘমেয়াদে টেকসই স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নেওয়া উদ্যোগগুলোতে বাংলাদেশ সরকার পূর্ণ সহযোগিতা ও সমর্থন দিতে প্রস্তুত। বাংলাদেশ ও জাপানের পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের মাধ্যমে স্বাস্থ্য খাতে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি অগ্রগতি অর্জন সম্ভব বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বিজ্ঞাপন