জাগ্রত শ্রাবণজাগ্রত শ্রাবণ

মোদী সরকারের নতুন আইন, বন্ধ হতে পারে নিউজচ্যানেল

ভারতে সাংবাদিকদের খবর প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সম্মতি নিতে বাধ্য থাকবে—এমন একটি গোপনীয়তা আইনের বিরুদ্ধে দেশটির সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে ২১টি সংবাদমাধ্যমের প্রকাশক। তাঁদের দাবি, আইনটি কার্যকর হলে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা বাধাগ্রস্ত হবে, সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে আগাম নিয়ন্ত্রণ বা ‘প্রাক্-সেন্সরশিপ’ তৈরি হবে এবং কোনো কোনো সংবাদকক্ষ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে।

লিখেছেন
· পড়তে সময় লাগবে ২ মিনিট
মোদী সরকারের নতুন আইন, বন্ধ হতে পারে নিউজচ্যানেল
· (ফাইল ছবি)

মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে মামলাটির শুনানি শুরু হয়। আইনটি নিয়ে এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে আলোচিত আইনি চ্যালেঞ্জ। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকাশকেরা আইনের বিতর্কিত অধিকাংশ বিধান বাতিলের আবেদন জানিয়েছেন। এসব বিধান ২০২৭ সালের মে মাস থেকে কার্যকর হওয়ার কথা।

মামলার শুনানিতে ডিজিটাল নিউজ পাবলিশার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডিএনপিএ) আইনজীবী মাধবী গোরাডিয়া দিভান বলেন, আইনটি সংবাদ কী—সেই ধারণাকেই বদলে দিচ্ছে। তাঁর ভাষ্য, সাংবাদিকদের যদি কোনো প্রতিবেদন প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অনুমতি নিতে হয়, তাহলে সংবাদকক্ষ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তিনি এ ব্যবস্থাকে ‘প্রাক্-সেন্সরশিপের পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা’ হিসেবে বর্ণনা করেন।

প্রকাশকদের অভিযোগ, আইনটি কার্যকর হলে সংবাদমাধ্যমকে প্রকাশিত প্রতিবেদন মুছে ফেলতে বাধ্য করার সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে সরকার সাংবাদিকদের কাছে এমন তথ্য চাইতে পারবে, যা তাঁদের সংবাদসূত্রের পরিচয় প্রকাশ করে দিতে পারে। এতে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরি এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা করছেন তাঁরা।

বিজ্ঞাপন

আইনটির বিরুদ্ধে করা মামলায় রয়েছে ভারতের বড় কয়েকটি সংবাদমাধ্যম গোষ্ঠী। ডিএনপিএর সদস্যদের মধ্যে আছে মুকেশ আম্বানির মালিকানাধীন নেটওয়ার্ক১৮, গৌতম আদানির এনডিটিভি, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস এবং টাইমস অব ইন্ডিয়া গোষ্ঠীর টাইমস ইন্টারনেট। এসব প্রকাশকের দাবি, আইনে সাংবাদিকদের জন্য স্পষ্ট ব্যতিক্রম বা ছাড় রাখা হয়নি।

প্রকাশকেরা জানান, আগস্টে সরকারের সঙ্গে এক বৈঠকে তাঁদের আশ্বস্ত করা হয়েছিল যে আইনটি সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সুরক্ষিত রাখবে। কিন্তু ইউরোপীয় ইউনিয়ন, সিঙ্গাপুর ও যুক্তরাজ্যের আইনে সাংবাদিকদের জন্য যেভাবে নির্দিষ্ট ছাড়ের বিধান রয়েছে, ভারতের চূড়ান্ত আইনে তেমন লিখিত অব্যাহতি না থাকায় উদ্বেগ বেড়েছে। চলতি মাসের শুরুতে আদালতে জমা দেওয়া আবেদনে তাঁরা এ বিষয়টি তুলে ধরেন।

ডিএনপিএর আইনজীবী দিভান আদালতকে বলেন, আইনের আগের খসড়াগুলোতে সাংবাদিকদের জন্য স্পষ্ট অব্যাহতি ছিল। কিন্তু চূড়ান্ত আইন থেকে সেই বিধান বাদ দেওয়া হয়েছে। প্রকাশকদের মতে, এতে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার পরিবর্তে সাংবাদিকতার ওপর অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর ভারতে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা কমেছে—এমন অভিযোগও দীর্ঘদিন ধরে করে আসছেন সমালোচকেরা। তাঁদের দাবি, দেশটির অনেক মূলধারার সংবাদমাধ্যম সরকারের কর্মকাণ্ড যথেষ্ট কঠোরভাবে যাচাই-বাছাই করছে না। তবে সরকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, তারা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতাকে সম্মান করে।

এর আগে আইনটির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছিলেন বাক্‌স্বাধীনতার অধিকার নিয়ে কাজ করা কর্মী এবং কয়েকটি ছোট সংবাদমাধ্যম। তবে বড় সংবাদমাধ্যম গোষ্ঠীগুলোর এই মামলা আইনটির বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে আলোচিত আইনি লড়াই হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সুপ্রিম কোর্ট মামলাটির পরবর্তী শুনানি আগামী মাসে নির্ধারণ করেছেন। আদালতের পরবর্তী শুনানিতে আইনটির বিতর্কিত বিধান, সাংবাদিকদের জন্য ছাড়ের প্রয়োজনীয়তা এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা।

বিজ্ঞাপন