জাগ্রত শ্রাবণজাগ্রত শ্রাবণ

হাসপাতালে অনুপস্থিত ৫ চিকিৎসক, বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত পাঁচ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। একই সঙ্গে অন্যত্র সংযুক্তিতে থাকা সাত চিকিৎসককে তাঁদের নিজ কর্মস্থলে ফিরিয়ে আনার নির্দেশনাও দিয়েছেন তিনি।

লিখেছেন
· পড়তে সময় লাগবে ২ মিনিট
হাসপাতালে অনুপস্থিত ৫ চিকিৎসক, বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
সকালে মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন · (ছবি সংগৃহীত)

বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে হাসপাতাল পরিদর্শনে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এ সময় চিকিৎসকদের উপস্থিতি, রোগীদের সেবার মান এবং হাসপাতালের সার্বিক পরিবেশ পর্যালোচনা করেন তিনি। পাশাপাশি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের অভিজ্ঞতা ও সমস্যার বিষয়ে খোঁজ নেন। পরিদর্শনকালে দুই অসহায় ব্যক্তিকে ব্যক্তিগতভাবে মোট ৬ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেন মন্ত্রী।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোট ৫১ জন চিকিৎসক রয়েছেন। পরিদর্শনের সময় তাঁদের মধ্যে ১২ জনকে অনুপস্থিত পাওয়া যায়। এঁদের মধ্যে সাতজন অন্যত্র সংযুক্তিতে কর্মরত এবং বাকি পাঁচজন দীর্ঘদিন ধরে নিজ কর্মস্থলে অনুপস্থিত বলে জানানো হয়। এ পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিন অনুপস্থিত চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া এবং সংযুক্তিতে থাকা চিকিৎসকদের নিজ কর্মস্থলে ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

পরিদর্শনকালে মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণা দেন তিনি। হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার পরিধি বাড়াতে ১০টি ডায়ালাইসিস মেশিন স্থাপন, প্রসূতি নারীদের জন্য ২০ শয্যার ওয়ার্ড এবং নবজাতকদের জন্য পৃথক ২০ শয্যার ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া পুরুষ ও নারীদের জন্য পৃথক ফিজিওথেরাপি সেবা এবং একটি ব্রেস্টফিডিং সেন্টার চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন

মন্ত্রী জানান, হাসপাতাল উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার প্রক্রিয়া আগামী ১৫ থেকে ১৬ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি আগামী ১ নভেম্বর নতুন করে যোগদান করতে যাওয়া ৪৮ জন চিকিৎসকের মধ্য থেকে মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জন্যও চিকিৎসক দেওয়ার কথা জানান তিনি। এতে হাসপাতালের জনবলসংকট কমানো এবং রোগীদের সেবা আরও উন্নত করার সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় আগের তুলনায় কিছুটা উন্নতি লক্ষ করলেও বর্জ্য ও আবর্জনা ব্যবস্থাপনা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। হাসপাতালের ভেতরে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশকে স্বাস্থ্যসেবার জন্য উদ্বেগজনক উল্লেখ করে তিনি বলেন, রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি হাসপাতালের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখাও জরুরি। স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্টদের আরও দায়িত্বশীল হওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

এ ছাড়া হাসপাতালের বিকল যানবাহনগুলো কন্ডেমনেশন বা ব্যবহার অনুপযোগী ঘোষণার প্রক্রিয়ায় নেওয়ার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন মন্ত্রী। অ্যাম্বুলেন্সের সংকট প্রসঙ্গে তিনি জানান, আগামী অর্থবছরের মধ্যে অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা রয়েছে।

স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবায় কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি। বর্তমান সরকার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে আরও আধুনিক ও জনবান্ধব করার উদ্যোগ নিয়েছে। সাধারণ মানুষ যাতে নিজ এলাকার হাসপাতালেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পান, সে লক্ষ্যে স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে কাজ করা হচ্ছে।

মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসাসেবা সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, আগের তুলনায় সেবার মান ভালো মনে হয়েছে। তবে পরিদর্শনে কিছু অনিয়ম তাঁর নজরে এসেছে। এসব বিষয়ে চিকিৎসকদের সতর্ক করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন