স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পটির তত্ত্বাবধানে রয়েছেন পিরোজপুর-১ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী। তিনি প্রয়াত দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছেলে।
নির্মাণস্থলে টাঙানো ব্যানারে উল্লেখ করা হয়েছে, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া স্থাপনা নির্মাণ করায় এর কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হলো। নির্দেশ অমান্য করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকল্পটির প্রচারে বলা হয়েছে, এখানে ১৫ তলাবিশিষ্ট পাঁচতারকা হোটেল ও রিসোর্ট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে কটেজ, সুইমিং পুল, জিম ও মসজিদসহ আধুনিক সুযোগ-সুবিধা রাখার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি সর্বনিম্ন চার লাখ টাকা বিনিয়োগে শেয়ার কিনে অংশীদার হওয়ার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।
কুয়াকাটা পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, কলাপাড়া উপজেলার লতাচাপলী মৌজায় প্রায় ২১ একর ৬৬ শতক জমি ঘিরে প্রকল্পটির কার্যক্রম চলছে। এরই মধ্যে অন্তত ছয় একর জমির উন্নয়ন ও সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করা হয়েছে। প্রকল্প এলাকায় একটি মসজিদ ও কনভেনশন হলের নির্মাণকাজও চলছিল।
কুয়াকাটা পৌরসভার প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইয়াসীন সাদেক জানান, প্রকল্পটির জন্য বরিশালের বিভাগীয় কমিশনারের অনুমোদন নেই। এ ছাড়া কুয়াকাটার মাস্টারপ্ল্যানে জমিটি রেলওয়ে স্থাপনার জন্য বরাদ্দ রয়েছে। এসব কারণে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ জানান, কুয়াকাটার মাস্টারপ্ল্যান এখনো অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। কুয়াকাটা হয়ে পায়রা সমুদ্রবন্দর দিয়ে মোংলা পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। ইস্তানবুল প্রকল্পের একটি অংশ প্রস্তাবিত রেললাইনের মধ্যে পড়েছে। এ ছাড়া প্রকল্পটির অনুমোদন না থাকায় স্থানীয় প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। প্রশাসন বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিয়েছে।
নির্মাণকাজ বন্ধের সময় কুয়াকাটা সৈকত ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যসচিব ও কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুজ্জামান এবং কুয়াকাটা পৌরসভার প্রশাসক মো. ইয়াসীন সাদেক উপস্থিত ছিলেন।
